15 Nov 2020

ওয়েব ডিজাইন কি?

ওয়েব ডিজাইন হচ্ছে একটা ওয়েবসাইটের জন্য বাহ্যিক অবয়ব তৈরী করা। ওয়েব ডিজাইনারের মুল কাজ একটা সাইটের জন্য টেমপ্লেট বানানো। যেমন লগিন সিস্টেম, নিউজলেটার সাইনআপ, পেজিনেশন, ফাইল আপলোড করে ডেটাবেসে সেভ করা, ইমেজ ম্যানিপুলেশন, যদি সাইটে বিজ্ঞাপন থাকে তাহলে প্রতিবার পেজ লোড হওয়ার সময় বিজ্ঞাপনের পরিবর্তন এগুলি এপ্লিকেশন, ওয়েব এপ্লিকেশন।

যেভাবে একজন আর্কিটেক্ট একটি বাড়ি তৈরীর আগে একটি সুন্দর প্ল্যান তৈরী করে ঠিক সেভাবেই একজন ওয়েব ডিজাইনার – ওয়েবসাইটের মডেল লেআউট ডিজাইন করে। একজন ওয়েব ডিজাইনারের প্রথম কাজ হচ্ছে একটি আইডিয়া জেনারেট করা; তারপর সেটিকে স্কেচ করে একটি ড্রাফট তৈরী করা। তারপর ওয়ারফ্রেমে সেই ড্রাফটিকে নিয়ে আসা, তারপর মকাপ তৈরী করা এবং সবশেষে ফাইনাল ডিজাইন তৈরী করা।

প্রক্রিয়াটি অনেকটা এরকম – স্কেচ (Sketch) > ড্রাফট (Draft) > ওয়ারফ্রেম (Wireframe) > মকাপ (Mock-up) > ফাইনাল ডিজাইন (Final Design)

ওয়েব ডিজাইনারের কাজ

  • সফটওয়্যার – এডোবি ফটোশপ, স্কেচ, ফ্রেমার, ফিগমা সহ আরো কিছু টুলসের সমন্বয়ে ওয়েবসাইটের ফাইনাল লেআউট ডিজাইন তৈরী করে থাকে।
  • ওয়েব ডিজাইনারকে গ্রাফিক ডিজাইনে অনেক ভালো দক্ষতা দেখাতে হয়।
  • ইউজার এক্সপেরিয়েন্স (UX) এর দিকে ডিজাইনারকে বেশ সজাগ থাকতে হয়, সাইটের লেআউট, বাটন, ইমেজ ও অন্যান্য ফরমেট গুলো সাইটকে আলাদা বৈশিষ্ট্য প্রদান করে।
  • ওয়েব ডিজাইনারকে লেটেস্ট ডিজাইন ট্রেন্ড অনুযায়ী নিজেকে আপ-টু-ডেট রাখতে হয়। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ গুগল, ফেসবুক, মাইক্রসফট এর মতো বড় টেক প্রতিষ্ঠান গুলো নিজেদের স্ব-কীয়তা বজায় রাখতে স্বতন্ত্র ডিজাইন প্যাটার্ণ তৈরী করছে।
  • ওয়েব ডিজাইনারের ব্র্যান্ডিং, কালার প্যালেট (Colour palettes), টাইপোগ্রাফি (Typography) সহ আরো জটিল বিষয়ে কাজ করতে হয় তাই এইসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান রাখতে হবে।

ওয়েব ডিজাইন করতে কি কি শিখতে হবে?

এইচটিএমএল: HTML শব্দটা মূলত সংক্ষিপ্তরূপ। সম্পূর্ণটা হচ্ছে Hyper text markup language/হাইপার টেক্সট মার্কআপ লেঙ্গুয়েজ।

১৯৮০ সালে HTTP এর উদ্ভাবকএবং ইউরোপের সারন (CERN) এর গবেষক টিম বারনারস লী এই ভাষার প্রাথমিক রুপ দেন এবং এর উন্নতি দিন দিন বাড়তে থাকে। তিনিই এই  ল্যাংগুয়েজের প্রোটোটাইপ তৈরি করেন।

প্রথমে কেবল একটি ডকুমেন্ট পেজ থেকে অপর একটি ডকুমেন্ট পেজ এ স্থানান্তর করা ছাড়া আর কিছু করা হত না। কিন্তু ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে এইচটিএমএল এরও জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এবং উন্নতি ঘটতে থাকে।

HTML Language দিয়ে বানানো ডকুমেন্টকে ওয়েব পেজ বলা হয়।এই ফাইলের এক্সটেনশন .html। এতে বিভিন্ন ট্যাগ ব্যবহার করে বিভিন্ন ফর্ম্যাটিং, অবজেক্ট ও লিংক প্রকাশ করা করা হয়।

নিচের কোডগুলি নোটপ্যাডে কপি পেস্ট করে .html extension দিয়ে সেভ করে যেকোন ব্রাউজারে খুলুন এবং নিজের তৈরী প্রথম ওয়েব পেজ দেখুন।

<html>
<head>
<title>My WebPage!</title>
</head>
<body>
Hello World!
</body>
</html>

সিএসএস: CSS এর পূর্ন রূপ হচ্ছে Cascading Style Sheets। একটি এইচটিএমএল ফাইলের বিভিন্ন উপাদান গুলো কিভাবে দেখাবে যেমন রঙ, ফন্ট সাইজ, মার্জিন, প্যাডিং ইত্যাদি সিএসএস দিয়ে নির্ধারণ করা হয়।একটা সময় ছিল যখন শুধুমাত্র HTML দিয়েই একটি ওয়েব সাইটের ডিজাইন করা হতো। বর্তমানে CSS ব্যবহার করে আপনার HTML পেজটিকেই আরও আকর্ষণীয় করে তুলা যায়।

তিনভাবে CSS কে এইচটিএমএল এর সাথে যুক্ত করা যায়

  • Inlineস্টাইল attributes ব্যবহার করে এইচটিএমএল এর সাথে যুক্ত করা যায়
  • Internal<style> এলিমেন্ট এইচটিএমএল এর head সেকশন এর মধ্যে যুক্ত করা যায়
  • External- এক বা একাধিক বাইরের সিএসএস ফাইল যুক্ত করে কাজ করা যায়।

জাভাস্ক্রিপ্ট: জাভাস্ক্রিপ্ট ওয়েব প্ল্যাটফর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার কারণ হল এটিতে একাধিক ফিচার আছে যা ওয়েবকে একটি শক্তিশালী অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্মে পরিণত করে। জাভাস্ক্রিপ্ট (Javascript) হচ্ছে ওয়েব এবং এইচটিএমএল-এর জন্য প্রোগ্রামিং ভাষা।এটির দ্বারা যেকোন ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেজকে জীবন্ত করা যায় । অর্থাৎ এটির দ্বারা ডাইনামিক ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় । এটিকে অনেক সময় ব্রাউজার সাইট ল্যাঙ্গুয়েজ ও বলা হয় । কারন এই ল্যাঙ্গুয়েজটি শুধুমাত্র ব্রাউজারেতে কাজ হয় বিভিন্ন ইভেন্টে এর সঙ্গে । এইচটিএমএল পেজের মধ্যে <head> অথবা <body> অথবা উভয় ট্যাগ এর মধ্যে জাভাস্ক্রিপ্টকে রাখা যায়।

জেকুয়েরি: জেকুয়েরি (jQuery) হচ্ছে জাভাস্ক্রিপ্ট এর একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় লাইব্রেরি । এখানে   এটা সব ধরনের ওয়েব ব্রাউজারে সাপোর্ট করে । জেকুয়েরির চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে ।ওয়েবসাইটকে আকর্ষণীয়ভাবে ফুটিয়ে তুলতে জেকুয়েরি শেখা অপরিহার্য ।ওয়েব ডিজাইনে দক্ষ হতে আপনাকে অবশ্যই জেকুয়েরি শিখতে হবে ।

ফটোশপ বেসিক: হে, আপনার ফটোশপের বেসিক কিছু জিনিস শিখতে হবে। কারণ, একটি ওয়েবসাইট বানানোর আগেই, আমাদের তার একটি ধারণা বা ডিজাইন ফটোশপে বানিয়ে নিতে হবে।এতে, ওয়েবসাইট বানাতে পরে অনেক সুবিধে হবে।

ওয়েব ডিজাইন থেকে টাকা আয়

চাকরির মাধ্যমে আয়

আমাদের দেশে প্রচুর ডিজাইন এজেন্সি রয়েছে যারা নিয়মিত দেশের এবং বাইরের ক্লায়েন্টদের কাজ করে থাকে।একজন ডিজাইনার হিসেবে আপনার খুব বেশি প্রেশার নিতে হবে না।আপনার কাজ শুধু ভাল ডিজাইন করা।

ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে চাকরির সুবিধা-

  • কোম্পানির কাজ না থাকলেও আপনার নিয়মিত বেতন বা আয় থাকবে।
  • আপনার সময়ের পুরোটাই আপনি ডিজাইনিং এর পেছনে ব্যয় করতে পারবেন।
  • চাকরির বাইরেও বিভিন্ন ক্লায়েন্টের প্রজেক্ট বেইজড কাজ করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং করে আয়

ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে অনলাইনে কাজ করলে, আপনার ইনকাম নির্ভর করবে আপনার করা কাজের সংখ্যার ওপর। যত বেশি কাজ আপনি অনলাইনে পাবেন ততটাই ইনকাম আপনার হবে।

আপনি Frelancer.com এবং Upwork.com এর ওয়েবসাইটে গিয়ে সেখানে একাউন্ট বানিয়ে নিজের জন্য ওয়েব ডিজাইনিং এর সাথে জড়িত ছোট বড়ো কাজ খুজতে পারবেনএকজন ফি-ল্যান্স ওয়েব ডিজাইনার ঘন্টায় ১০-১০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। আবার যারা এখনো ফ্রি-ল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে নিজের অবস্থান তাতোটা শক্ত পারেনি তাদের অনেকেই ৫-১০ ডলারেরও কাজ করে থাকেন।

ওয়েব ডিজাইনিং ফ্রি-ল্যান্সিং এর সুবিধা –

  • সময়ের ব্যপারে আপনি সম্পুর্ন স্বাধীন। নিজের সময় অনুযায়ী কাজ করা যায়।
  • বাছাই করে কাজ করা যায়।
  • পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে বসে কাজ করা যায়।
  • নানা ধরনের প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করা যায়।

আপনাদের প্রতিষ্ঠানে কি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর উপর কোনো ট্রেনিং করানো হয়?

জ্বী আমাদের প্রতিষ্ঠানে ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্টের উপর ট্রেনিং করানো হয়। আমরা গর্বিতভাবে নিজেদেরকে যোগ্য প্রতিষ্ঠান মনে করি। কেননা আমরা ততক্ষণ আপনাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাব যতক্ষণ না আপনি মার্কেটে কাজ করার জন্য প্রস্তুত হবেন। আর এর জন্য আমাদের আছে ল্যাব সুবিধা এবং যোগ্য অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রশিক্ষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *